তথ্যবার্তা
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) আবেদনপ্রক্রিয়া — ধাপসমূহ: ১) প্রথমে https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/citizen-home/apply ওয়েবসাইটে আবেদন করুন এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। ২) আবেদনপত্রে উল্লিখিত তারিখে কনস্যুলেটে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত হন: আবেদনপত্রের প্রিন্ট করা কপি; আবেদনকারীর ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি; অনলাইনে যাচাইযোগ্য ১৭ ডিজিটের বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সনদ; যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশি দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে ইস্যু করা অনলাইনে যাচাইযোগ্য ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধন সনদ; মেয়াদসহ বাংলাদেশি পাসপোর্টের ফটোকপি অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্টের ফটোকপি; বিকল্প প্রমাণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তিনজন বাংলাদেশি NID-ধারীর নির্ধারিত ফরমে নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত প্রত্যয়ন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে); পিতা-মাতার বাংলাদেশি NID-এর কপি অথবা অনলাইনে যাচাইযোগ্য ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধন সনদের কপি অথবা বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি; পিতা-মাতার মৃত্যু হলে অনলাইনে যাচাইযোগ্য ১৭ ডিজিটের মৃত্যু নিবন্ধন সনদের কপি; অথবা ওয়ারিশান সনদ, পিতা-মাতা বাংলাদেশের বাসিন্দা মর্মে নাগরিক সনদ, কিংবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদনকারী বা পিতা-মাতার দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদের কপি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নিয়ম সর্বশেষভাবে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি দূতাবাস/কনস্যুলেট এবং সরকারি NID পোর্টাল থেকে যাচাই করুন।

জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংশোধনের নিয়ম, ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ২০২৬

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। এই কার্ডে নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা অথবা অন্যান্য তথ্যে ভুল থাকলে নির্ধারিত নিয়মে সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে কোন ধরনের তথ্য সংশোধন করতে হবে, তার ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদন যাচাইয়ের পদ্ধতি ও সরকারি ফি ভিন্ন হতে পারে।

এই পোস্টে অনলাইনে NID সংশোধনের নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সংশোধন ফি, আবেদন যাচাই এবং আবেদনের অবস্থা জানার উপায় বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. অনলাইনে NID সংশোধনের আবেদন করবেন যেভাবে

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে।

আবেদন করার ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো।

জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংশোধন: ২০টি সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID কার্ডে নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম, বৈবাহিক অবস্থা কিংবা ঠিকানায় ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করতে হয়। ভুল তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তথ্যের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিতে হতে পারে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা-সংক্রান্ত সাধারণ জিজ্ঞাসার আলোকে নিচে NID সংশোধন সম্পর্কে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর তুলে ধরা হলো।

NID সংশোধন-সংক্রান্ত সাধারণ জিজ্ঞাসা

১. জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য কীভাবে সংশোধন করা যায়?

উত্তর: জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য অনলাইনে অথবা জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন উইং কিংবা সংশ্লিষ্ট উপজেলা, থানা বা জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করা যায়। সংশোধনের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত প্রমাণপত্র আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।

২. NID কার্ডে তথ্য সংশোধন করা হলে কি তার রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়?

উত্তর: হ্যাঁ। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের রেকর্ড কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকে।

৩. ভুলক্রমে পিতা, স্বামী বা মাতাকে মৃত উল্লেখ করা হলে কী করতে হবে?

উত্তর: জীবিত পিতা, স্বামী বা মাতাকে ভুলক্রমে মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র দিয়ে সংশোধনের আবেদন করতে হবে।

৪. অবিবাহিত ব্যক্তির NID কার্ডে পিতার পরিবর্তে স্বামীর নাম থাকলে কীভাবে সংশোধন করবেন?

উত্তর: সংশ্লিষ্ট উপজেলা, থানা বা জেলা নির্বাচন অফিসে অবিবাহিত থাকার পক্ষে প্রমাণপত্রসহ আবেদন করতে হবে। কর্তৃপক্ষের যাচাই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৫. বিয়ের পর NID কার্ডে স্বামীর নাম কীভাবে যুক্ত করবেন?

উত্তর: বিয়ের পর স্বামীর নাম যুক্ত করার জন্য নিকাহনামা বা কাবিননামা এবং স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অনলাইনে অথবা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।

৬. বিবাহবিচ্ছেদের পর NID কার্ড থেকে স্বামীর নাম কীভাবে বাদ দেবেন?

উত্তর: বিবাহবিচ্ছেদের প্রমাণ হিসেবে তালাকনামা বা প্রযোজ্য আইনগত দলিল সংযুক্ত করে সংশোধনের আবেদন করতে হবে। আবেদন অনলাইনে অথবা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে করা যেতে পারে।

৭. বিবাহবিচ্ছেদের পর পুনরায় বিয়ে করলে বর্তমান স্বামীর নাম কীভাবে যুক্ত করবেন?

উত্তর: আগের বিবাহবিচ্ছেদের দলিল এবং পরবর্তী বিয়ের কাবিননামাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে সংশোধনের আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

৮. NID কার্ডে পেশার তথ্য পরিবর্তন করতে কী করতে হবে?

উত্তর: পেশার তথ্য পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রসহ অনলাইনে অথবা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে আবেদন করা যেতে পারে। তবে পেশার তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্ডে মুদ্রিত হয় না—এ বিষয়টি মনে রাখতে হবে।

৯. NID কার্ডের ছবি অস্পষ্ট হলে কীভাবে পরিবর্তন করবেন?

উত্তর: জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। প্রয়োজন হলে আবেদনকারীকে সরাসরি উপস্থিত হয়ে ছবি তোলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে।

১০. নিজের, পিতা, মাতা বা স্বামীর নামের বানান সংশোধনে কী কী কাগজপত্র লাগে?

উত্তর: সংশোধনের ধরন অনুযায়ী নিচের এক বা একাধিক প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে:

  • এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ
  • জন্মনিবন্ধন সনদ
  • পাসপোর্ট
  • নাগরিকত্ব সনদ
  • চাকরির প্রমাণপত্র
  • নিকাহনামা বা কাবিননামা
  • পিতা, মাতা বা স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি

সব ক্ষেত্রে একই কাগজপত্র প্রয়োজন হয় না। আবেদনকারীর তথ্য ও সংশোধনের ধরন অনুযায়ী দলিল নির্ধারিত হতে পারে।

১১. ডাকনাম বা অন্য নামে NID নিবন্ধিত হলে কীভাবে সংশোধন করবেন?

উত্তর: প্রকৃত নামের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষে এসএসসি বা সমমানের সনদ, স্বামী বা স্ত্রীর NID, আদালতের হলফনামা, জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, ওয়ারিশ সনদ এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র চাওয়া হতে পারে।

১২. পিতা, মাতা বা স্বামীকে মৃত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে কী লাগে?

উত্তর: সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সাধারণত মৃত্যু সনদসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়।

১৩. NID কার্ডের ঠিকানা কীভাবে পরিবর্তন বা সংশোধন করবেন?

উত্তর: ঠিকানা পরিবর্তনের ধরন অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।

  • আবাসস্থল পরিবর্তন: অন্য এলাকায় বসবাস শুরু করলে সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ঠিকানা স্থানান্তরের আবেদন করতে হতে পারে।
  • একই ভোটার এলাকার মধ্যে ঠিকানা পরিবর্তন: নির্ধারিত সংশোধন ফরমে আবেদন করা যেতে পারে।
  • ঠিকানার বানান বা তথ্যের ভুল: ভুল তথ্যের পক্ষে প্রমাণপত্র দিয়ে সংশোধনের আবেদন করতে হবে।

আবাসস্থল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ফরম-১৩ প্রযোজ্য হতে পারে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের নির্দেশনা যাচাই করুন।

১৪. সরকারি ভাতা পাওয়ার জন্য NID-তে বয়স বাড়ানো যায় কি?

উত্তর: কেবল সরকারি ভাতা পাওয়ার উদ্দেশ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স পরিবর্তন করা যায় না। জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র দিতে হয়। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী দলিল যাচাই ও তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

১৫. একই পরিবারের সদস্যদের NID কার্ডে পিতা বা মাতার নাম ভিন্নভাবে লেখা থাকলে কী করবেন?

উত্তর: সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, পারিবারিক সম্পর্কের বিবরণ এবং সঠিক নামের পক্ষে প্রমাণপত্রসহ সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে অথবা অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করতে হবে।

১৬. শিক্ষাগত যোগ্যতা ভুলভাবে এসএসসি বা তার বেশি উল্লেখ করা হলে কীভাবে সংশোধন করবেন?

উত্তর: শিক্ষাগত যোগ্যতা ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকলে প্রকৃত তথ্যের পক্ষে প্রমাণপত্র দিয়ে সংশোধনের আবেদন করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী হলফনামা বা অন্যান্য দলিল চাওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

১৭. নিজের NID কার্ডে অন্য ব্যক্তির তথ্য চলে এলে কী করবেন?

উত্তর: এ ধরনের ভুল সংশোধনের জন্য সঠিক পরিচয়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রসহ অনলাইনে অথবা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে। প্রয়োজনে বায়োমেট্রিক যাচাইসহ অন্যান্য তদন্তের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

১৮. NID কার্ডে রক্তের গ্রুপ যুক্ত বা সংশোধন করতে কী লাগে?

উত্তর: রক্তের গ্রুপ যুক্ত বা সংশোধনের জন্য অনুমোদিত বা গ্রহণযোগ্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের রিপোর্টসহ আবেদন করতে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি জমা দিন।

১৯. NID কার্ডে বয়স বা জন্মতারিখ পরিবর্তনের নিয়ম কী?

উত্তর: জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদ থাকলে তার কপি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের সনদ না থাকলে সঠিক জন্মতারিখের পক্ষে অন্যান্য গ্রহণযোগ্য দলিল জমা দিতে হবে। আবেদন যাচাই, তদন্ত বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

জন্মতারিখ সংশোধন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই আবেদন করার আগে আপনার ক্ষেত্রে কোন কোন প্রমাণপত্র প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস থেকে জেনে নিন।

২০. NID কার্ডের স্বাক্ষর পরিবর্তন করতে কী করতে হবে?

উত্তর: স্বাক্ষর পরিবর্তনের জন্য নতুন স্বাক্ষরের নমুনা এবং গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত নির্দেশনায় স্বাক্ষর একবার পরিবর্তনের কথা উল্লেখ রয়েছে; আবেদন করার আগে বর্তমান নিয়ম যাচাই করে নিন।

NID সংশোধনের আবেদন কোথায় করবেন?

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন, আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় ফরমের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা পোর্টাল ব্যবহার করুন।

গুরুত্বপূর্ণ লিংক:

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

NID সংশোধনের জন্য আবেদন করার আগে আপনার তথ্যের ভুলের ধরন নির্ধারণ করুন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখুন। আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করুন। ভুল বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করবেন না।

ধাপ ২: অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাই করুন

প্রয়োজন অনুযায়ী NID নম্বর অথবা ফর্ম নম্বর, জন্মতারিখ এবং অন্যান্য চাওয়া তথ্য দিন। মোবাইল নম্বর যাচাই, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মুখমণ্ডল যাচাই এবং ঠিকানা-সংক্রান্ত ধাপ সম্পন্ন করতে হতে পারে।

ধাপ ৩: প্রোফাইলের তথ্য পরীক্ষা করুন

লগইন করার পর আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। কোন তথ্যটি ভুল এবং সেটি কীভাবে সংশোধন করতে চান, তা নির্ধারণ করুন।

ধাপ ৪: সংশোধনের আবেদন করুন

প্রোফাইলে থাকা সম্পাদনা বা তথ্য সংশোধনের সুবিধা ব্যবহার করে ভুল তথ্যের পরিবর্তে সঠিক তথ্য দিন। কোন তথ্য সংশোধন করছেন, তার সঙ্গে যেন আপলোড করা কাগজপত্রের মিল থাকে।

ধাপ ৫: প্রমাণপত্র আপলোড করুন

সংশোধনের ধরন অনুযায়ী এসএসসি বা সমমানের সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ, পাসপোর্ট, বাবা-মায়ের NID, বিবাহের কাবিননামা অথবা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি দিতে হতে পারে।

ধাপ ৬: আবেদন যাচাই করে ফি পরিশোধ করুন

আবেদনের সব তথ্য ও সংযুক্ত কাগজপত্র পুনরায় যাচাই করুন। পোর্টালে প্রদর্শিত নির্ধারিত ফি থাকলে অনুমোদিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করুন।

ধাপ ৭: আবেদন জমা দিয়ে রসিদ সংরক্ষণ করুন

আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদন নম্বর, রসিদ বা ট্র্যাকিং-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করুন। পরবর্তী সময়ে আবেদনের অবস্থা জানতে এগুলো কাজে লাগবে।

২. NID সংশোধনের সরকারি ফি কত?

২০২৬ সালের ৩০ জুলাই প্রকাশিত নতুন ফি-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার ভিত্তিতে সংশোধনের ফি নিম্নরূপ উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতীয় পরিচয়পত্রের দৃশ্যমান তথ্য সংশোধনের ফি

  • প্রথমবার সংশোধন: ২৩০ টাকা, ভ্যাটসহ।
  • দ্বিতীয়বার সংশোধন: ৩৪৫ টাকা, ভ্যাটসহ।
  • পরবর্তী প্রতিবার সংশোধন: ৪৬০ টাকা, ভ্যাটসহ।

দৃশ্যমান তথ্যের মধ্যে সাধারণত কার্ডে প্রদর্শিত নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়।

অভ্যন্তরীণ তথ্য-উপাত্ত সংশোধনের ফি

  • প্রথমবার সংশোধন: ১১৫ টাকা, ভ্যাটসহ।
  • দ্বিতীয়বার সংশোধন: ২৩০ টাকা, ভ্যাটসহ।
  • পরবর্তী প্রতিবার সংশোধন: ৩৪৫ টাকা, ভ্যাটসহ।

অভ্যন্তরীণ তথ্য-উপাত্ত সংশোধন এবং কার্ডে প্রদর্শিত তথ্য সংশোধন এক বিষয় নয়। তাই ঠিকানা পরিবর্তন বা অন্য কোনো তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে নিজের আবেদন কোন শ্রেণিতে পড়বে, তা সরকারি পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

গুরুত্বপূর্ণ: উপরের ফি প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। আবেদন করার সময় সরকারি পোর্টালে যে ফি দেখাবে, সেটিই চূড়ান্তভাবে যাচাই করবেন।

৩. NID সংশোধনে কী কী কাগজপত্র লাগে?

সব ধরনের সংশোধনের জন্য একই কাগজপত্র প্রয়োজন হয় না। ভুল তথ্যের ধরন এবং আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রমাণপত্র দিতে হয়।

নিজের নাম সংশোধন

নিজের নামের বানান ভুল, নামের অংশ বাদ পড়া অথবা নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে:

  • এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ।
  • জন্মনিবন্ধন সনদ।
  • পাসপোর্ট বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র।
  • প্রয়োজন অনুযায়ী হলফনামা ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি।
  • সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের চাওয়া অতিরিক্ত প্রমাণপত্র।

নাম পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই বা ব্যক্তিগত শুনানির প্রয়োজন হতে পারে।

পিতা বা মাতার নাম সংশোধন

বাবা বা মায়ের নাম ভুল থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী জমা দিতে হতে পারে:

  • আবেদনকারীর এসএসসি বা সমমানের সনদ।
  • জন্মনিবন্ধন সনদ।
  • পিতা বা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।
  • নাগরিকত্ব সনদ বা পারিবারিক পরিচয়-সংক্রান্ত প্রমাণ।
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কাবিননামা, পাসপোর্ট বা চাকরির প্রমাণপত্র।

কাগজপত্রে নামের বানান ও পরিচয়ের সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

জন্মতারিখ সংশোধন

জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণত শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র প্রয়োজন হয়। যেমন:

  • এসএসসি বা সমমানের সনদ, যদি থাকে।
  • জন্মনিবন্ধন সনদ।
  • পাসপোর্ট বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি।
  • প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত শিক্ষাগত বা পারিবারিক দলিল।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারী এসএসসি বা সমমান পাস হলে শিক্ষাগত সনদকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। জন্মতারিখে বড় ধরনের পরিবর্তন চাইলে অতিরিক্ত যাচাই হতে পারে।

ঠিকানা সংশোধন

ঠিকানার বানান বা নম্বর সংশোধন এবং এক ভোটার এলাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থানান্তর এক বিষয় নয়।

ঠিকানা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে:

  • পরিবারের সদস্যের NID-এর কপি।
  • বিদ্যুৎ, গ্যাস বা অন্যান্য ইউটিলিটি বিল।
  • হোল্ডিং ট্যাক্স বা কর পরিশোধের কাগজ।
  • স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়নপত্র।
  • স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানার পক্ষে গ্রহণযোগ্য অন্যান্য প্রমাণ।

ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট স্থানান্তর প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে হতে পারে।

স্বামী বা স্ত্রীর নাম এবং বৈবাহিক তথ্য সংশোধন

বিবাহ বা বিবাহবিচ্ছেদের কারণে তথ্য পরিবর্তন করতে হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে:

  • বিবাহের কাবিননামা বা বিবাহ সনদ।
  • স্বামী বা স্ত্রীর NID-এর কপি।
  • বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনগত নথি।
  • অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণপত্র।

রক্তের গ্রুপ সংশোধন

রক্তের গ্রুপ যোগ বা সংশোধন করতে হলে গ্রহণযোগ্য মেডিকেল রিপোর্ট বা সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র চাওয়া হতে পারে।

মনে রাখবেন: কোন নথি বাধ্যতামূলক হবে, তা আবেদনভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাগজপত্র প্রস্তুত করুন।

৪. NID সংশোধনের আবেদন কত দিনে সম্পন্ন হয়?

NID সংশোধনের জন্য সবার ক্ষেত্রে একই সময় লাগে না। আবেদনের ধরন, তথ্যের গুরুত্ব, সংযুক্ত নথির যথার্থতা এবং যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর সময় নির্ভর করে।

সাধারণ বানান ভুলের আবেদন এবং নাম বা জন্মতারিখের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের আবেদন একই সময়ে নিষ্পত্তি নাও হতে পারে।

আবেদনের অবস্থা জানতে:

১. সরকারি NID সেবা পোর্টালে লগইন করুন।

২. আবেদন বা সংশোধন-সংক্রান্ত অংশে প্রবেশ করুন।

৩. আবেদনের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করুন।

৪. অতিরিক্ত কাগজপত্র বা অফিসে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা থাকলে তা অনুসরণ করুন।

আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর সংশোধিত তথ্য অনলাইনে দেখা বা কার্ড সংগ্রহের সুযোগ সম্পর্কে পোর্টালের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। নির্দিষ্ট সময়ে কার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা ধরে আবেদন করবেন না।

৫. NID সংশোধনের আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ

বিভিন্ন কারণে আবেদন আটকে যেতে পারে বা প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। যেমন:

  • ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে আবেদন করা।
  • আবেদনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কাগজপত্র জমা দেওয়া।
  • প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সংযুক্ত না করা।
  • শিক্ষাগত সনদ, জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য নথিতে তথ্যের অমিল থাকা।
  • গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকা।
  • নির্বাচন অফিসের অতিরিক্ত যাচাই বা শুনানিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না করা।

আবেদন বাতিল হলে কারণটি বুঝে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র প্রস্তুত করুন। একই ভুল নিয়ে বারবার আবেদন না করে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৬. NID সংশোধনের আবেদন কোথায় করবেন?

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য প্রথমে নির্বাচন কমিশনের সরকারি অনলাইন সেবা পোর্টাল ব্যবহার করতে পারেন।

সরকারি ওয়েবসাইট: https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/

সরকারি NID তথ্য ও নির্দেশনা: https://www.nidw.gov.bd/

প্রয়োজনে আপনার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন। নির্বাচন কমিশনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংশোধনের আবেদনের সঙ্গে সমর্থনকারী দলিল জমা দিতে হয়।

৭. NID সংশোধনের সময় যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন

  • আবেদন করার আগে নিজের সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করুন।
  • প্রকৃত তথ্যের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র দিন।
  • অন্যের তথ্য বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করবেন না।
  • আবেদন নম্বর ও ফি পরিশোধের রসিদ সংরক্ষণ করুন।
  • অপরিচিত ব্যক্তি বা অননুমোদিত ওয়েবসাইটে NID নম্বর, জন্মতারিখ, OTP কিংবা অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড দেবেন না।
  • কোনো দালালকে টাকা দিয়ে দ্রুত সংশোধনের নিশ্চয়তা বিশ্বাস করবেন না।
  • ফি পরিবর্তিত হতে পারে, তাই টাকা পরিশোধের আগে সরকারি পোর্টালে পরিমাণ যাচাই করুন।

৮. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: NID সংশোধনের আবেদন কি অনলাইনে করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ। নির্বাচন কমিশনের অনলাইন সেবা পোর্টালে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই বা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগের প্রয়োজন হতে পারে।

প্রশ্ন: জন্মতারিখ সংশোধনে কোন সনদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ থাকলে সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। পাশাপাশি অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্রও চাওয়া হতে পারে।

প্রশ্ন: শুধু ঠিকানা পরিবর্তন করতে কী করতে হবে?

উত্তর: ঠিকানার বানান বা নম্বর সংশোধন এবং ভোটার এলাকা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া আলাদা হতে পারে। আপনার ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য, তা সরকারি পোর্টাল বা স্থানীয় নির্বাচন অফিস থেকে নিশ্চিত করুন।

প্রশ্ন: NID সংশোধনের ফি কত?

উত্তর: সংশোধনের ধরন ও আগের আবেদনের সংখ্যার ওপর ফি নির্ভর করে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত নতুন ফি-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, দৃশ্যমান তথ্য সংশোধনের ফি প্রথমবার ২৩০ টাকা, দ্বিতীয়বার ৩৪৫ টাকা এবং পরবর্তীবার ৪৬০ টাকা। অভ্যন্তরীণ তথ্য-উপাত্ত সংশোধনের ফি প্রথমবার ১১৫ টাকা, দ্বিতীয়বার ২৩০ টাকা এবং পরবর্তীবার ৩৪৫ টাকা। আবেদনের সময় সরকারি পোর্টালে ফি যাচাই করুন।

প্রশ্ন: আবেদন জমা দেওয়ার পর কীভাবে অবস্থা জানব?

উত্তর: সরকারি পোর্টালে লগইন করে আবেদনের অবস্থা দেখুন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভুল থাকলে সঠিক প্রমাণপত্র দিয়ে নির্ধারিত নিয়মে সংশোধনের আবেদন করা উচিত। আবেদন জমা দেওয়ার আগে তথ্য, কাগজপত্র ও সরকারি ফি যাচাই করলে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমতে পারে। সর্বশেষ নিয়ম ও নির্দেশনার জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইট অনুসরণ করুন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের NID সেবা ও সংশোধনসংক্রান্ত নির্দেশনা এবং ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সংশোধন ফি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন।

তথ্য-সংক্রান্ত নোট: এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। নিয়ম বা সরকারি নির্দেশনা পরিবর্তিত হতে পারে; চূড়ান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে যাচাই করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *